উত্তরদিনাজপুর

৭ মাসের পুত্র সন্তানকে বিক্রি করার চেষ্টার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে, যদিও সেচ্ছাসেবী সংস্থা হস্তক্ষেপ করলেও অন্ধকারে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন

মা মরা ৭ মাসের পুত্র সন্তানকে বিক্রি করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে, যদিও এক সেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের তৎপরতায় বন্ধ হলো কেনাবেচা। ৪ বছর শিশুর ভরন পোষনের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি শিশু বিক্রি না করার লিখিত অঙ্গীকারপত্র শিশুর বাবার কাছ থেকে নিল ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তবে এত ঘটনা ঘটে গেলেও প্রশাসনকে একবারও জানালোনা প্রয়োজন বোধ করল না কেউ। আর সেই সুযোগেই পুত্র সন্তান কিনতে আসা খদ্দের গা ঢাকা দিল খুব সহজেই। শনিবার এমনই ঘটনাটি ঘটল ইসলামপুর থানার সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েতের চোতরাগছ এলাকায়। 

        জানা গেছে ৭ মাস আগে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে মারা যান রহিমা খাতুন। রহিমার স্বামী সনু মহম্মদ স্ত্রী মারা যাওয়ায় ছোট্টো মকিমুদ্দিনকে নিয়ে বিপদে পড়েন। সনু ও রহিমার আগে থেকেই ২ টি মেয়ে আছে। অভাব ও সমস্যার জন্য সনু নিজের ৭ মাসের মা মরা সন্তান কে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করার জন্য খদ্দের জোগাড় করে ফেলেন। শুক্রবার কথা অনুযায়ী সন্তানকে ডেলিভারি দিতে স্থানীয় আদলগছে শিশুকে নিয়ে যান সোনু মহাম্মদ বলে অভিযোগ। সেই সময় এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক সদস্যের নজরে আসে ঘটনাটি। দ্রুত সংস্থার সব সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। আটকানো হয় শিশু বিক্রির এই ঘৃন্যতম ঘটনা। সোনু মহাম্মদ তার আর্থিক সমস্যার কথা জানান ওই সেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের। সেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে ৪ বছর শিশুর সব খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সোনু মহাম্মদের কাছে লিখিত আকারে শিশু বিক্রি না করার অঙ্গীকার পত্র নেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এই অসামাজিক কাজের খবর কেন দেওয়া হলো না উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনকে ? প্রশ্ন উঠছে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের উপরেও। সাধারণ মানুষ না হয় খবর দেয়নি কিন্তু ওই সংস্থার সদস্যরা তো পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে পারত ? প্রশ্ন অনেক উত্তর অজানা।